ছোট ঘর মানে যে সেটি সুন্দরভাবে সাজানো যাবে না এমনটা নয়। বরং ছুটিতে পরিকল্পনা উপযুক্ত আসবাবপত্র এবং রঙের ব্যবহার জানলে দেখতে অনেক বড় পরিপাটি ও আরামদায়ক লাগতে পারে। বিশেষ করে শহরের ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া বাসা কিংবা সীমিত বাজেটের ঘরে কৌশল অবলম্বন করে আনা সম্ভব।
অনেকেই ছোট ঘর সাজানোর আইডিয়া খুঁজলেও কোথা থেকে শুরু করবেন তা বুঝতে পারেন না। ঘরে খুব বেশি আসবাবপত্র রাখা ভুল রং বেঁচে নেওয়া প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে রাখার কারণে আরো সংকীর্ণ দেখাতে পারে। তাই ঘরের আকার দরজা আলু এবং প্রয়োজনীয় জিনিস এর তালিকা বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
এই লেখায় ছোট ঘরকে কিভাবে সুন্দর আকর্ষিত, আধুনিক, আরামদায়ক, এবং ব্যবহারযোগ্য করে সাজাতে পারবেন তার বিস্তারিত ধারনা দেওয়া হল।
ছোট ঘর সাজানোর আগে যে বিষয়গুলি খেয়াল রাখবেন
ঘর সাজানোর আগে শুধুমাত্র সৌন্দর্যের কথা ভাবলে হবে না। ছোট ঘরের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা কে কার্যকর ভাবে করার জন্য চেষ্টা করতে হবে।
প্রথমেই আপনি ঘরের সুন্দর একটি মাপ নিবেন বিছানা ঘোড়ার টেবিল অথবা সোফা কোথায় রাখবেন সেটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন। দরজা খোলার জায়গা এবং জানালার সামনে যেন বড় কোন আসবাবপত্র না থাকে সেদিকেও রাখতে হবে।
এরপর ঘরের কোন জিনিসগুলো সত্যিই প্রয়োজন এবং শুধু জায়গা দখল করে রেখেছে তা আলাদা করে নিবেন। ছোট ঘরে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র যত বেশি থাকবে তত বেশি অগোছালো দেখাবে।
ঘরের দেয়ালে হালকা রং ব্যবহার করুন : ছোট একটি ঘরকে তুলনামূলক বড় দেখানোর সবথেকে সহজ উপায় গুলোর মধ্যে একটি হলো দেয়ালে হালকা রং ব্যবহার করা।
সাদা, অফ হোয়াইট, ক্রিম, হালকা ধুসর, ভেইজ কিংবা খুব হালকা ফ্যাস্টেল ঘরে আলো প্রতিফলিত করতে সাহায্য করে। ফলে ঘর তুলনামূলক খোলামেলা মনে হয়।
তবে পুরো ঘর একসাথে সাদা করতে হবে এমন কথা নয় যদি। চাইলে হালকা রং রেখে সামান্য ঘাঢ় অথবা ভিন্ন সেট ব্যবহার করতে পারেন। গারো রং ব্যবহার করতে চাইলে একটি নির্দিষ্ট দেয়ালে সীমিতভাবে ব্যবহার করাই ভালো।
প্রাকৃতিক আলোকে বাধা দেবেন না : ছোট ঘরে আলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ জানালা যদি থাকে তাহলে সেটি বাড়ি পর্দা দিয়ে ডেকে রাখবেন না।
পাতলা বা হালকা রঙ্গের পর্দা ব্যবহার করলে দিনের আলু সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারবে এতে আপনার ঘর উজ্জ্বল ও প্রশস্ত মনে হবে
জানালার সামনে আলমারি অথবা বড় গাছ বাড়ি আসবা পত্র রাখার পরিবর্তে যতটা সম্ভব খালি রাখার চেষ্টা করুন। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করলে শুধু সুন্দর দেখায় না বরং কৃত্রিম আলোরউপর নির্ভরত কমে
আয়না দিয়ে ছোট ঘরকে বড় দেখান : ছোট ঘর সাজানোর আইডিয়া হিসেবে আইনা ব্যবহার বেশ কার্যকর হতে পারে। বড় একটি আয়না দেয়ালে এমনভাবে লাগানো যায় যাতে করে আলোর উৎস প্রতিফলন দেখায় আলুর অনুভূতি বারে যায়গাটা কিছুটা বড় মনে হতে পারে।
তবে একসঙ্গে অনেকগুলো ছোট আয়না লাগানোর দরকার নেই আয়না সঠিক জায়গায় লাগানো যথেষ্ট হতে পারে। আয়না লাগানোর আগে অবশ্যই নিশ্চিত করুন সেটি নিরাপদ স্থানে হয়েছে।
মেঝের জায়গা যতটা সম্ভব খালি রাখুন : ছোট ঘর বড় দেখানোর আরো একটি সহজ কৌশল হল মেঝেতে অতিরিক্ত জিনিস না রাখা। যদি সম্ভব হয় দেয়ালে লাগানো সেলফি ব্যবহার করবেন এতে করে গাছ ছবি অথবা অন্যান্য জিনিসপত্র রাখার জন্য মেঝেতে আলাদা ফার্নিচার রাখার কোন প্রয়োজন হবে না।
ঠিক একই ভাবে জুতার রেক ছোট স্টোরেজ অন্য জিনিস নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। মেজে যতটা খোলা থাকবে ঘর তত বেশি পরিষ্কার এবং প্রশস্ত দেখাবে।
বিছানার অবস্থা ঠিক করুন : বেডরুম ছোট হলে বিছানায় সাধারণত বেশি জায়গা দখল করে তাই বিছানার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সম্ভব হয় বিছানাকে এমন একটি জায়গায় রাখুন যাতে দরজা দিয়ে ঢুকার সময় ঘরের চলাচলের পথ বাঁধাগ্রস্থ না হয়।
বিছানার চারপাশে অপ্রয়োজনীয় টেবিল স্টোরেজ রাখার প্রয়োজন নেই। একটি ছোট বেড সাইট টেবিলে অনেক সময় এমনকি প্রয়োজন হলে লাগানো ছোট ব্যবহার করে বেড সাইট টেবিলের জায়গাটাও বাঁচিয়ে ঘর সুন্দর রাখা যাবে।
ছোট ঘরে গাছ রাখার কার্যকর উপায় : ঘরে সবুজ ঘাস রাখলে পরিবেশ সতেজ মনে হবে করে বড় টব রাখলে মূল্যবান মেঝের জায়গা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এর পরবর্তীতে ছোট ইনডোর প্লান্ট ঝুলন্ত প্লান্ট কিংবা দেয়ালে লাগানো প্লান্ট ফোল্ডার ব্যবহার করা যায়।
তবে গাছ রাখার ক্ষেত্রে ঘরের আলো বাতাস এবং গাছের যত্ন, পরিচর্যা, প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সাজানোর জন্য এমন গাছ কিনবেন না যার পরিচর্যা আপনার পক্ষে কঠিন এবং কষ্টসাধ্য হবে।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দেন : ছোট ঘরের সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় ঘরের আকার নয় অতিরিক্ত জিনিসপত্র। যে পোশাক দীর্ঘদিন ব্যবহার করেন না পুরনো কাগজপত্র ও প্রয়োজনেও বাক্স কিংবা ব্যবহার না করা ডেকোরেশন এসব নিয়মিত বাছাই করতে হবে।
একটি সহজ নিয়ম হতে পারে যে জিনিস নিয়মিত ব্যবহার করেন না এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করার বাস্তব পরিকল্পনা নেই ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমানো সম্ভব। এবং আপনার ঘরকে বড় এবং আকর্ষণীয় মনে হবে।
ছোট ঘরে কার্পেট ব্যবহারের কৌশল : কার্পেট ঘরকে আরামদায়ক গড়ে তুলতে পারে বা অতিরিক্ত নকশাযুক্ত আপনার ঘরকে ভাড়ী দেখাতে পারে।
ঘরের আকার অনুযায়ী মাঝারি অথবা ছোট একটি কার্পেট বেছে নিতে হবে। হালকা রং এবং সাধারন নকশা ছোট করার জন্য ভালো মানাতে পারে। কার্পেট কেনার আগে ঘরের নির্দিষ্ট জায়গার মাপ নিতে হবে।
ঘরে চলাচলের জায়গা খালি রাখুন : ঘর সাজানোর সময় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একটি হাটা চলার জায়গা। দরজা থেকে বিছানা টেবিল কিংবা জানালার দিকে যাওয়ার জন্য।
আসবাবপত্র কেনার আগে মাপ নিয়ে পরিকল্পনা করলে তারপর ঘর অস্বস্তিকর হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। এবং আপনার ঘরে হাঁটাচলা করার জন্য কোন সমস্যা হবে না।
কম খরচে ঘর সাজানোর আইডিয়া : ভোর সাজাতে সবসময় অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয় না। আপনার সুন্দর একটি পরিকল্পনা ছোটঘরকে কম বাজেটে সাজানো যায়।
পুরাতন আসবাবপত্র পরিষ্কার করে নতুনভাবে ব্যবহার করা যায়। পুরাতন কাঠের জিনিস হিসেবে ব্যবহার করা তৈরি করা ছোট ডেকোরেশন দিয়ে বিবর্তন খুব সহজেই আনা যায়।
কুশনের কভার পর্দা কিংবা বিছানার চাদর পরিবর্তন করেও ঘরের লোক অনেকটাই সহজে বদলে দেওয়া সম্ভব। তবে Diy করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দেবেন।
ছোট ঘর সুন্দর রাখতে দৈনন্দিন অভ্যাস : ঘর একবার সুন্দর করে সাজালে কাজ শেষ হয়ে যায় না। বরং নিয়মিত গোছানো এবং পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিদিন সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখতে হবে ব্যবহার করা পোশাক একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে। টেবিলের উপর অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র অথবা কোন জিনিস জমতে দেওয়া যাবে না
দিনশেষে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে ঘরের জিনিসগুলো নিজ নিজ জায়গায় রাখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার আলমারি স্টোরেজ এবং অন্যান্য জায়গা থেকে নিতে হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমে বড় সমস্যা তৈরি করবে না।
শেষ কথা
ছোট ঘর সাজানোর আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য বড় বাজেট অথবা দামে আসবাবপত্র সব সময় প্রয়োজন পড়ে না। মূল বিষয় হল ঘরের জায়গাকে বুদ্ধিমানের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। হালকা রুম আলো বাতাস কার্যকরী স্টোরিস বহুমুখী আসবাবপত্র এবং তো ডেকোরেশন ব্যবহার করলে ছোট একটি ঘরকেও সুন্দর এবং প্রশস্ত লাগতে পারে।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অন্য কারো ঘরের ডিজাইন হুবহু অনুসরণ করার পরবর্তীতে নিজের ঘরের আকার দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সাজানো উত্তম। কারণ ঘর দেখতে শুধুমাত্র আকর্ষণীয় হলেই হবে না সেখানে থাকা কাজ করা এবং বিশ্রাম নেওয়া যেন আরামদায়ক হয়।
তাই ছোট ঘর সাজানোর সময় কম জিনিস, সঠিক জায়গা, এবং কার্যকর ব্যবহার, এই তিনটি বিষয়কে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেবেন। আপনার সামান্য পরিকল্পনাতেই আপনার ছোটঘড় হয়ে উঠতে পারে পরিপাটি, আরামদায়ক, এবং নিজের মত সুন্দর।
