পেটের মেদ কমানোর কার্যকর উপায়

পেটের মেদ কমানোর কার্যকর উপায়

পেটের চর্বি বা মেদ নিয়ে বিপাকে পড়ে যান অনেকেই কারণ আমাদের শরীরের অধিকাংশ চর্বি প্রথমে পেটের অংশে জমা হয়।  অনেকেই জানতে চান পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায় কি।

প্রথমেই জানতে হবে আপনার পেটের আদর্শ পরিমাপ কত ওই যে বুঝতে পারবেন আপনার পেট থেকে কতটুকু বাড়তি মেয়েদের কমিয়ে ফেলতে হবে।  একটি ইঞ্চি টেপ নিয়ে আপনার পেটের পরিধি পরিমাপ করে নিতে পারেন সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে ৪০ ইঞ্চি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩৫ ইঞ্চি থেকে শুরু করে পরিমাপগুলোকে পেটের স্থলতা হিসেবে ধরা হয়।

তাহলে আপনি অবশ্যই বুঝতে পারছেন আপনার পেটে বাড়তি ম্যাচ কতটুকু।  মূলত আমাদের শরীরে দুই ধরনের মেদ থাকে, একটি প্রয়োজনীয় আমাদের শরীরের মাংসপেশি সুগঠিত করতে সাহায্য করে।  এবং রয়েছে যা আমাদের আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেই এজন্য ক্ষতিকর।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সামনে সহজ ভাষায় তুলে ধরব কিভাবে আপনার পেটের মেদ কমাবেন।

পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায়গুলো কী কী

চিনি জাতীয় খাবার পরিহার করুন

চিনি একটি শর্করা জাতীয় খাবার পেটের বাড়তি মেয়েদের অন্যতম কারণ হচ্ছে চিনিযুক্ত খাবার।  চিনি যুক্ত খাবার প্রচুর পরিমাণে খেলে আমাদের ওজন খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চিনিতে রয়েছে অর্ধেক গ্লুকোজ এবং অর্ধেক ফ্রুক্টোজ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত ফ্রক্টোজ গ্রহনের  কারণে আমাদের পেট এবং লিভারের চারপাশে একটি মেদ তৈরি হয় ।  এর ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

এছাড়া পেটের মেদ এবং লেবারের চর্বি আমাদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি করতে বাধা সৃষ্টি করে তাই চিনি যুক্ত খাবার থেকে শুরু করে কোমল পানীয় পান করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যেসব বাচ্চারা প্রতিদিন কোমল পানীয় বেশি পরিমাণে পান করে তাদের স্থুলতার সম্ভাবনা বাকি শিশুদের থেকে ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে ফলমূলে বিদ্যমান চিনির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয় বরং এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর।  ফলের রসে বিদ্যমান চিনির ক্ষতিকারক ফ্রুক্টেজ ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

বেশি পরিমাণে প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন

পেটের মেদ কমানোর জন্য প্রোটিন হতে পারে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার।  এটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রোটিন আমাদের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে  এবং খাদ্যের চাহিদা প্রায় ৬০ শতাংশ কমিয়ে নিয়ে আসে। অর্থাৎ প্রোটিন আমাদের প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকা থেকে প্রায় ৪৪১ ক্যালোরি কম খাদ্য গ্রহণ করতে অনেক বেশি সহায়তা করে।

প্রোটিন আমাদের পেটের মেদ কমাতে কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।  অনেকগুলো গবেষণা করে দেখা গিয়েছে যেসব ব্যক্তিরা প্রোটিন থেকে ২৫-৩০% কেলে গ্রহণ করে তাদের ওজন রাশের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি হয়।  প্রোটিন জাতীয় খাবার হিসেবে খেতে পারেন  ডিম, দুধ, মাছ,  বাদাম,  মাংস,  সিমের বিচি, এবং দুধের তৈরি খাবার।  তাছাড়া দোকান থেকে আপনি অনেক ধরনের প্রোটিন পাউডার ও কিনতে পেয়ে যাবেন যা প্রোটিন শেক হিসেবে অনেকেই সব সময় খেয়ে থাকেন।

কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ কমিয়ে দিন

যদি আপনার পেটের বাড়তি মেদ কমাতে চান  তাহলে আজই খাদ্য তালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমে দিতে হবে। সীমিত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ আমাদের পেটের মেদ কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী উপায় বলে মনে করেন অভিজ্ঞ  পুষ্টিবিদরা।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে লো কার্ব ডায়েটগুলো ওজন কমানোর ক্ষেত্রে লো ফ্যাট  ডাইডের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দ্রুত কাজ করে।  তাছাড়া কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণে আমাদের পেটের ভিতরে রিতুকের চারপাশে ক্ষতিকর চর্বিগুলো ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে।

খাদ্য তালিকা থেকে আঠা, আলু, ভাত, ক্যান্ডি ইত্যাদি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।  আর আপনি যদি দ্রুত পেটের মেদ কমাতে চান তাহলে কিটো ডায়েট করতে হবে তবে তার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিবেন।  কারণ কিটো ডায়েট এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা সম্পর্কে আপনাকে প্রথমে সতর্ক হয়ে নিতে হবে।  এছাড়াও মেদ কমাতে লো কার্ব  ডায়েট অত্যন্ত কার্যকরী।

প্রতিদিন ব্যায়াম করুন

পেটের মেদ কমাতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই।  ব্যায়াম আমাদের শরীরের অতিরিক্ত মেদ এবং চর্বি জড়িয়ে ফেলতে অনেক বেশি সাহায্য করে।  তাছাড়া ব্যায়ামের ফলে আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন  বৃদ্ধি করে।  এবং খাদ্য পরিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে।  বিয়ান শুধুমাত্র ওজন কমানোর জন্য সাহায্য করেনা একটি রাজকৃত ওজন পুনরায় ফিরিয়ে আনতে বাধা দেয়।

শুধুমাত্র পেটের মেদ কমানোর জন্য অনেক ধরনের ব্যায়াম রয়েছে তবে আপনাকে পেটের মেদ কমাতে হলে পুরো শরীরের মেদ কমাতে হবে।  কারণ আলাদা করে শুধুমাত্র একটি অংশের মেদ কমানো কখনোই সম্ভব হয় না।  আপনার পেটের মেদ কমাতে কার্ডিও ব্যায়ামগুলো করতে পারেন।  তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  হাটা দৌড়ানোর সাঁতার কাটা দড়ি লাভ এই ব্যায়ামগুলো পেটের মেদ কমাতে দারুণভাবে কাজ করে।

প্রতিদিনকার calery গ্রহনের একটি হিসাব রাখুন

আমরা অনেকেই জানি পেটের মেদ কমাতে আমাদের কি কি খাওয়া উচিত এবং কি কি খাওয়া উচিত না।  তবে সারাদিনে কতটুকু ক্যালোরি গ্রহণ করেছে সে সম্পর্কে সঠিক একটি হিসাব রাখতে ভুলে যাই।  অথচ পেটের মেদ কমানোর প্রথম শর্তই হচ্ছে ক্যালোরি মেপে খাদ্য গ্রহণ করা।  খাবারের বিদ্যমান খেলে পরিমাপ আলাদা আলাদা।

বেশিরভাগ সময় দেখা যায় আমরা জানি না কোন খাবারে কি পরিমাণ ক্যালানো রয়েছে প্রত্যেকটি খাবারের পরিমাণ জেনে একটি চাট তৈরি করে নিলে ভালো হয়।  আজকাল বাজারে অনেক রকমের কিচেন স্কেল অহরহ পাওয়া যাচ্ছে গ্রহণ করলে খুব তাড়াতাড়ি আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে পৌঁছে যেতে পারবেন।

খাবার তালিকায় ফাইবার যুক্ত রাখুন

প্রচুর পরিমাণে ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে আমাদের শরীর থেকে মেদ কমাতে দারুনভাবে কাজ করবে।  তবে আপনি ফাইবার গ্রহণ করছেন সেটি সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নিতে হবে।

দেখা গিয়েছে যে সকল ধরনের ফাইবার সহজে দৃরবভুত হয়ে যায় সেই ফাইবারগুলো মেদ কমাতে সাহায্য করে।  খাবারের বৃন্দাবন ফাইবার আমাদের পাকস্থলীতে যেয়ে এক ধরনের গণ জেল তৈরি করে আর এই জেলগুলো সাধারণত আমাদের অন্তরে অবস্থান করে এবং আমাদের খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে বিরহ করে দেয়।  যার কারণে আমাদের ঘন ঘন খুদা অনুভব হয় না।  একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রতিদিন মাত্র ১০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণে আপনার পেটের চর্বি ৪ শতাংশ  পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

চিন্তামুক্ত থাকুন

আমাদের শরীরের মেদ কমিটি গিয়ে চিন্তামুক্ত রাখাটা অনেকে জরুরী।  কারণ আমরা যখন বেশিরভাগ সময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ভাবে কাটিয়ে দেই তখন আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ ট্রেশ হরমোন নির্গত হয়।  স্ট্রেস হরমোন আমাদের খাদ্য পরিপাকে বাধা তৈরি করে ফলে যেসব খাবার হজম হতে বাধা পাই তা আমাদের শরীরে বাড়তি মেদ হিসেবে জমা হয়ে থাকে।

সকল সময় হাসিখুশি থাকবেন চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে এতে আমাদের মেটাবলিজম বাড়ে এবং আমাদের শরীরের মেয়াদ কমাতে সাহায্য করে।  এছাড়া অতিরিক্ত ট্রেশ আমাদের শরীরের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর।

পরিশেষ

পেটের বাড়তি মেদ আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।  বেশিরভাগ মানুষ তাদের মেদ কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবন দ্বারা অনুসরণ করে মনে রাখবেন পেটের মেয়ের একবার কমিয়ে তারপর যদি আবার আগের জীবন দাঁড়ায় ফিরে যান তাহলে সেই মেয়ে পুনরায় ফিরে আসতে বেশি সময় নিবে না।  অর্থাৎ আপনার সকল পরিশ্রমৃত হয়ে যাবে যদি আপনি আপনার ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারেন। তাই  উপরে যে বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো তা ভালোভাবে পালন করে দেখতে পারেন কিছুদিন।

About admin

আমি মো: জারিফ হাসান একজন ছাত্র আমি লাইফস্টাইল নিয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করি

View all posts by admin →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *