পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট কিচেনের সম্পূর্ণ গাইডলাইন

পরিচ্ছন্ন ও স্মার্ট কিচেনের সম্পূর্ণ গাইডলাইন

ভূমিকা 

অনেকেই ভাবেন রান্নাঘর গুছিয়ে রাখা খুব কঠিন, কিন্তু রান্নাঘরে শুধু খাবার তৈরির জায়গা নয়, এটি আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, একটি অগোছালো রান্নাঘরে রান্না করতে অনেক বেশি সময় লাগে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে অনেক বেশি কষ্ট লাগে এবং প্রয়োজনীয় জিনিস সময় মত খুঁজে পাওয়া যায় না,

কিছু কার্যকর পদক্ষেপ আর ছোট ছোট অভ্যাসে আপনারা রান্নাঘরকে সহজেই সুন্দর পরিপাটি করে রাখতে পারবেন,

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো কি করে বাস্তবসম্মত উপায়ে সহজ কৌশলে আপনার রান্নাঘরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যকর ব্যবহার বান্ধব করে তুলবেন।

রান্নাঘর গুছিয়ে রাখার গুরুত্ব

রান্নাঘর ভালোভাবে গুছিয়ে রাখলে সেটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষিত থাকে, এতে রান্নার সময় অনেক কম লাগে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে যায়, স্বাস্থ্যকর উপায়ে খাবার রান্না হওয়ার ফলে রোগব্যাধি কম হয়, পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়, খবারকে নিরাপদ ভাবে সংরক্ষিত করা যায় এবং এতে খাবার দীর্ঘদিন ভালো তাকে অপচয় কম হয়, প্রয়োজনীয় জিনিস খোঁজার জন্য সময়ের অপব্যয় হয় না, সহজেই জিনিস খুঁজে পাওয়া যায়, রান্নাঘর পরী পার্টি থাকলে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে, সুন্দর জায়গায় কাজ করতে আগ্রহ বেশি হয়।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস

রান্নাঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেললে অনেক বেশি জায়গা খালি হবে, এতে আপনি চাইলে নতুন জিনিস এ্যাড করতে পারবেন, এমনকি রান্নাঘর গুছিয়ে রাখা অনেক বেশি সহজ হবে,

প্রথমেই রান্নাঘরে এমন জিনিস গুলো আলাদা করুন যেগুলো দীর্ঘদিন আপনি ব্যবহার করছেন না, নষ্ট এবং অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের জিনিসপত্র, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার এবং মসলা, ভাঙ্গা প্লেট কাপ বাটি গ্লাস হাড়ি পাতিল সরিয়ে ফেলুন, অচল সরঞ্জাম, যা আপনি ব্যবহার করতে পারছেন না সেগুলো রান্নাঘর থেকে বের করে ফেলুন।

সঠিক প্রোডাক্ট এর ব্যবহার

আপনার রান্না ঘরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন, চাল, ডাল, চিনি, ময়দা, সুজি, এরকম শুকনো খাবার স্বচ্ছ এবং বাতাস প্রতিরোধক কন্টেনারে সংরক্ষণ করুন, এর ফলে এর ভেতরে কি আছে সহজেই আপনি দেখতে পারবেন, বাতাস ভেতরে না ঢুকার কারণে খাবার দীর্ঘ দিন ভালো থাকবে, পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হবে, এতে করে আপনার জিনিস অপচয় কমে যাবে, রান্নাঘর কে দেখতে আরো সুন্দর এবং পরিপাটি লাগবে।

সব জিনিস একসঙ্গে রাখবেন না

রান্নাঘরের প্রতিটা জিনিস প্রেম নির্দিষ্ট বিভাগে ভাগ করুন, প্রত্যেকটা জিনিস আলাদা আলাদা ভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় সাজিয়ে রাখুন, যেমন

সব ধরনের মসলা এক জায়গায় রাখুন

সব ধরনের শুকনো খাবার চাল ডাল একসঙ্গে রাখুন

তেল, সস, শুকনো মসলা যেগুলো আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তা হাতের কাছে কোন রেক বা সেলফে রাখুন,

প্লেট বাটি গ্লাস প্রত্যেকটা জিনিস আলাদা আলাদা জায়গায় রাখুন,

এতে করে আপনার প্রয়োজনে সময় জিনিস গুলো খুজে পেতে অনেক বেশি সহজ হবে, এবং বারবার জিনিস খোজার জন্য আপনার সময়ের অপচয় হবে না আপনার কাজগুলা খুব দ্রুত শেষ হবে।

লেভেল লাগান

আপনার রান্না ঘরে থাকা প্রত্যেকটা কন্টেনারেল লেভেল লাগান, এতে করে আপনার জিনিস খুঁজে পেতে অনেক বেশি সহজ হবে, আপনার বোন এবং বিভ্রান্তি কম হবে, তাই প্রতিটি কন্টেনারে পরিষ্কারভাবে নাম লিখে রাখুন, যেমন চালের বাক্সে চাল ডালের বাক্সে ডাল, এরকম করে চিনি লগন ময়দা মরিচের গুঁড়া তেজপাতা বিভিন্ন ধরনের সহজ এবং মসলা কৌটা গুলোতে নাম লিখে রাখুন।

ব্যবহৃত জিনিস হাতের কাছে রাখুন

আপনি যেসব জিনিস রান্নায় প্রতিদিন ব্যবহার করেন অথবা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকেন এগুলো আপনার হাতের কাছে রাখুন, এ জিনিস গুলা পরিমানে কম সময়ে ব্যবহৃত হয় সেগুলোকে গুছিয়ে একটু দূরে রাখুন, এতে করে আপনার রান্না সময় অযথা হাটাহাটি কম হবে,

ফ্রিজ গুছিয়ে রাখুন

আপনার ফ্রিজ  যদি অগোছালো থাকে, এতে খাবারের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং অনেক বেশি খাবার নষ্ট হয়, তাই আপনি আপনার ফ্রিজটাকে সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখুন, কাঁচা মাছ মাংস নিচের তাকে রাখুন, ফল এবং সবজি আলাদা রয়েছে রাখুন, মেয়াদ গুলা চেক করে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার সরিয়ে ফেলুন, রান্না করা খাবার বাতাস প্রতিরোধক বক্সে ভরে সংরক্ষণ করুন এবং সেগুলোকে আলাদা রাখুন,

নিয়মিত পরিষ্কার করুন

রান্না শেষ হওয়ার পরে আপনার রান্না করতে কে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন, ব্যবহৃত বাসন কুসন  ধুয়ে ফেলুন, রান্নায় ব্যবহৃত হওয়া বাটি পাতিল ধুয়ে সিংকে রাখুন, কানা শেষ হওয়ার সাথে সাথে চুলা মুছে ফেলুন, সবশেষে রান্নার টেবিল এবং রান্নাঘরের ফ্লোর পরিষ্কার করে ফেলুন, প্রতিদিন অল্প অল্প কে আপনি রান্নাঘর পরিষ্কার ব্যয় করেন তাহলে আপনার রান্না করে বড় ধরনের কোন ময়লা জমবে না।

রান্নাঘরের দেয়ালকে কাজে লাগান

রান্নাঘর ছোট হলেও তার চারপাশের দেয়ালকে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু রাখা যায়, রান্না ঘরের দেয়ালে হুক ব্যবহার করে অনেক ধরনের সেল্ফ,রেক রাখতে পারেন,বাজারে অনেক ধরনের ম্যাগনেটিক নাইট হোল্ডার ইত্যাদি পাওয়া যায়, ব্যবহার করে আপনি অনেক কিছু ঝুলিয়ে রাখতে পারবেন, এতে করে আপনার রান্নার টেবিলের জায়গা খালি থাকবে এবং কাজ করতে সুবিধা হবে।

গভীরভাবে পরিষ্কার করুন

সপ্তাহে অন্তত একদিন গভীরভাবে আপনারা রান্নাঘর থেকে পরিষ্কার করুন, প্রতিদিনের পাশাপাশি যদি আপনি সপ্তাহে একদিন  আপনার রান্না ঘর করতে পরিষ্কার করেন সেটি অনেক বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং গোছালো থাকবে,

সপ্তাহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন তাই আপনি আপনার কেবিনেটটি পরিষ্কার করুন, চিমনি ব্যান্ড থাকলে সেগুলো পরিষ্কার করুন, মসলার ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করুন, আপনার ফ্রিজ থেকে অব্যবহৃত অপ্রয়োজনীয় খাবার বের করুন এবং এটিকে পরিষ্কার করুন,

রান্নার সব ধরনের সরঞ্জাম একসাথে রাখবেন না এটিকে ভাগ ভাগ করে রাখুন, এগুলোকে ভাগ করার জন্য আপনার রান্নাঘরে ডিভাইডার ব্যবহার করতে পারেন, আপনার ড্রয়ারগুলাকে ডিভাইড করে তাতে কাটা চামচ চুরি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম আলাদা আলাদা করে রাখুন।

উপকরণ প্রস্তুত করুন

রান্না করার আগে রান্নার সব ধরনের উপকরণ আগে প্রস্তুত করে নিন, রান্না শুরু করার আগে যদি আপনি প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত করে নিন, তাহলে আপনার রান্না অনেক বেশি সহজ হবে, এতে করে আপনার ভুল অনেক কম হবে,সময়  বাঁচবে এবং রান্নাঘর  অগোছালো হবে না

প্রতিদিন গোছানোর অভ্যাস করুন

প্রতিদিন অন্তত দশ মিনিট আপনি আপনার রান্নাঘর থেকে গুছানোর অভ্যাস করুন, আপনি আপনার রান্না ঘরের কাউন্টার পরিস্কার রাখুন, এলোমেলো জিনিস গুলোকে জায়গা মত রাখুন, ময়লার ঝুড়ি প্রতিদিন খালি করুন, এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো আপনার রান্নাঘরকে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করবে,

আপনার স্টোরে যদি খাবার সংরক্ষিত থাকে তাহলে সেগুলো ব্যবহার করার আগে অবশ্যই খাবার নিয়মিত পরীক্ষা করে নিবেন, এগুলোর মেয়াদ আছে কিনা, প্রতিমাসে কমপক্ষে একবার হলেও শুকনো খাবার এবং প্যাকেটজাত খাবারের মেয়াদ দেখুন, যেগুলোর মেয়াদ  শেষ হয়ে গেছে সেগুলো আলাদা করে ফেলে দিন,

স্টোরেজ  ব্যবহারের নিয়ম

আপনারা রান্না করতে যদি ছোট হয় তাহলে লম্বালম্বি স্টোরেজ গুলা ব্যবহার করতে পারেন, আপনার ওয়ালে ঝুলন্ত ঝার্ক  ব্যবহার করে  সেটা কে  অরগানাইজ করতে পারেন, আপনি চাইলে আপনি রান্না ঘটি কেবিনেট সিস্টেম করতে পারেন, এতে করে আপনার অল্প জায়গায় অনেক বেশি জিনিস রাখা সম্ভব,

পর্যাপ্ত আলো বাতাস

রান্নাঘরে অবশ্যই পর্যাপ্ত আলো বাতাস আসা নিশ্চিত করুন, এতে করে আপনার দুর্ঘটনার সুযোগ  অনেক কমে যাবে, প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে কাজ করতে পারবেন,

বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার

আপনি যদি আপনার রান্নাঘরে নিয়মিত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন যেমন মাইক্রোওয়েভ, ব্লেন্ডার, রাইস কুকার, ইলেকট্রনিক্স টোস্টার, ওয়াটার হিটার, ইত্যাদি।

তাহলে এগুলো আর নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন এতে দুর্ঘটনা ও কমবে এবং যন্ত্রপাতি অনেক দিন ভালো থাকবে, রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেগুলোর কর্ম ক্ষমতা অনেক কমে যেতে পারে,

বাজারের তালিকা

আপনি আপনার রান্নার বাজার করার আগে অবশ্যই পরিকল্পনা মাফিক বাজারের তালিকা তৈরি করুন, বাজারের তালিকা না তৈরি করলে আমরা অনেক সময় প্রয়োজন ছাড়া অনেক জিনিস কিনে ফেলি,

বাজারে যাওয়ার আগে রান্নার তালিকা রাখুন, সাপ্তাহে মেনু অনুযায়ী খাবারের লিস্ট তৈরি করুন এবং সেই তালিকা অনুযায়ী কেনাকাটা করুন, এতে করে আপনার অর্থশাস্ত্রয় হবে এবং রান্নাঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমবে।

উপসংহার

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর গৃহিণী ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে, এটি শুধু সুন্দর্য প্রকাশ করে না জীবনযাপন এবং সময় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ,

মনে রাখবেন রান্নাঘর গুছিয়ে রাখার জন্য বড় ধরনের কোন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই পভাসগুলি আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদ এর পার্থক্য তৈরি করে দেবে, আজ থেকে আপনি একটি কৌশল অনুসরণ করে শুরু করুন ধীরে ধীরে আপনার সবকিছু আরামদায়ক এবং ব্যবহার বান্ধব হয়ে উঠেছে। জায়গায় নিয়মিত আব্বাস গড়ে তুলুন এতে করে আপনার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে এবং আপনি সহজে একটি সুন্দর এবং কার্যক্ষমতা উপযোগী একটি  রান্নাঘর তৈরি করতে পারবেন।

সাথে  থাকার জন্য ধন্যবাদ

নিয়মিত লাইফ স্টাইলের টিপস পেতে আমাদের পেজের সঙ্গে থাকুন

About admin

আমি মো: জারিফ হাসান একজন ছাত্র আমি লাইফস্টাইল নিয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করি

View all posts by admin →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *